Author Topic: প্রশ্ন-১  (Read 1964 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

Jupiter Joyprakash

  • Administrator
  • Full Member
  • *****
  • Posts: 175
  • Karma: +0/-0
    • View Profile
প্রশ্ন-১
« on: May 21, 2013, 08:11:27 AM »
যেখানে একটা নৌকা, গাড়ি, কারখানা নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারেনা। নিজে নিজে চলতেওপারে না সেখানে এত বড় বিশ্ব কিভাবে নিজে সৃষ্টি হতে বা চলতে পারে?
 
 একটা নৌকা, গাড়ি বা কারখানা জাতীয় জটিল সিস্টেম তৈরী হয় অনেকগুলি সরল সিস্টেমকে উপযুক্তভাবে জুড়ে। যেমন কারখানার উদাহরণ দিয়েই বলা যায় যে সেটির মধ্যে বিভিন্ন অংশ আছে যেগুলোর একসাথে মিলে সেই কারখানা হয়। এই অংশগুলি কোনোটাই নিজে তৈরী হয় না, সেগুলো বানানো হয়। যারা সেগুলো বানায় তারা সেইসব অংশের ব্যাপারে জেনেই সেগুলো বানায়। এক কথায় বলতে গেলে যে জিনিসটা বানানো হয় সেটার চেয়ে যে বানায় সে অনেক বেশি জটিল। যেখানে বানানোর বস্তুটা অত্যধিক জটিল হয় সেখানেও সেটাকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে বানানো হয়। সব সময়েই যে বানায় সে সৃষ্ট বস্তুটার চেয়ে বেশি জটিল হয়। 
মানুষের শরীরের মতন জটিল জিনিসও কিছু কোষ দিয়ে বানানো। সেই কোষ আবার তার চেয়েও সরল অঙ্গানু দিয়ে বানানো। ইলেকট্রণ প্রোটন নিউট্রন ইত্যাদি দিয়ে পরমাণু, পরমাণু দিয়ে পদার্থ। এইভাবে বিশ্ব তৈরী। সব খানেই সরল সিস্টেম জুড়ে জটিল সিস্টেম গড়ে ওঠার ব্যাপার।
 
 
এবারে প্রশ্ন হল যে এই সরল সিস্টেমগুলো নিজেই তৈরী হতে পারে, নাকি কেউ সেটা বানিয়ে দিলে তবেই হয়?
এবার একটা সরল উদাহরণ নিয়ে শুরু করা যাক। ধরা যাক মানুষের প্রাচীন আগুন জ্বালার যন্ত্র, যা ছিল পাথরে পাথরে ঘষা দেওয়া। এটি দুই ভাবে তৈরী হতে পারে।
 ১) মানুষ আকস্মিকভাবে জানতে পেরেছে যে পাথরে পাথরে ঘসে আগুন জ্বলে। পরে সেটা নিজেরা ব্যবহার করেছে।
 ২) মানুষ আগে জেনেছে যে পাথরে পাথরে ঘষে তাপ সৃষ্টি হয়, আগুন জ্বালতে তাপের প্রয়োজন ইত্যাদি।
 
 প্রথমটা আকস্মিকতা। হাজারবার দেখে মানুষ শিখে যেতেই পারে। কিন্তু দ্বিতীয়টা ঘটার শর্ত হল যিনি পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালার ব্যাপারটা বুঝে সেটা বানাবেন তাঁর মানষিক জটিলতা অবশ্যই সেই যন্ত্রটির তুলনায় বেশি জটিল হবে। তাঁর চেতনা অবশ্যই সেই স্তরের হতে হবে যাতে তিনি এর মেকানিজমটা বোঝেন, সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখেন।
 
 বাস্তবেই দেখা যায় একটা মানুষ জন্ম থেকে যন্ত্রের মেকানিজম বোঝার মত জটিল মানসিকতা নিয়ে আসে না। এই ক্ষমতা একটু একটু করে জ্ঞান অর্জন ও তার বিশ্লেষণ করতে করতে তার ব্রেনে তৈরী হয়। সেটা হবার জন্য ছোটো থেকে অল্পে অল্পে অনেক কিছু জানার দরকার পড়ে। আবার সেইসব যন্ত্রের অংশ যিনি তৈরী করেন তাঁর জ্ঞান ও চেতনা আলাদা লাইনের। কিন্তু সামান্য একটা হাতঘড়ি বানাতে গেলে ধাতু পরিশুদ্ধ করে তা থেকে যন্ত্রাংশ বানানো লাগে, তার পর সেগুলো সঠিক ভাবে জুড়ে গোটা জিনিসটা দাঁড় করানো লাগে। এই পুরো সিস্টেমের প্রতিটি অংশ যাঁরা বাস্তবায়ন করেন তাঁরা সেই স্তরের চেতনা অর্জন করেছেন বলেই পারেন। কেউ যদি দাবী করে বসেন যে একটা হাতঘড়ি তৈরীর মতন জটিল চেতনা নিয়ে জন্মেছেন তবে সেটা হাস্যকর।
 
 এই ধাতু বিশুদ্ধ করা থেকে শুরু করে প্রতিটি অংশই আবিষ্কার হয়েছে হয় আকশ্মিকভাবে, অথবা সচেতন গবেষণায়। সচেতন গবেষণার ক্ষেত্রে অবশ্যই আবিষ্কারক সেই স্তরের চেতনা অর্জন করেছিলেন আগের জ্ঞান হজম করে। আজ যদি কেউ একটা হাতঘড়ি বানিয়ে বলে বসে সে এটার পুরোটাই গোড়া থেকেই জানত আর বুঝত তবে সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সহজ কথায়, একটা জটিল সিস্টেম গড়ে ওঠার জন্য সময় লাগে। সেটাকে বুঝে ওঠার জন্যও সময় লাগে।
 
 কেউ যদি এখন দাবী করেন যে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন, কোয়ার্ক ইত্যাদির মতন কণা কোটি কোটি বছরেও আকশ্মিকভাবে সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের জেনেবুঝে সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট সিস্টেমে সাজিয়ে দেবার মতন চেতনা আপনা থেকেই তৈরী হওয়া সম্ভব তবে সেটা আকশ্মিক ভাবে বিশ্বসৃষ্টির চেয়েও অসম্ভব দাবী হয়ে দাঁড়ায়। এমন একটা জটিল চেতনা নিজেই তৈরী হবার চাইতে ইলেকট্রণ প্রোটন নিজেই তৈরী হওয়াটা অনেক বেশি সহজ।
 
 
 জীব সৃষ্টি ও মানুষ সৃষ্টি
 
 উপরের দাবীর মতই আস্তিকদের দাবী যে শতকোটি বছরেও মৌলিক পদার্থ এমন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া করতে পারে না যাতে DNA বা RNA এর মতন জটিল অনু আকশ্মিকভাবে তৈরী হতে পারে। তৈরী হবার পরে কোটি কোটি বছরের গড়াপেটার মাধ্যমেও সে থেকে বুদ্ধিমান জীব জন্মাতে পারে বলেও তাঁরা মানতে পারেন না। কিন্তু তাঁরাই আবার দাবী করেন DNA এর মতন জটিল অনু জেনেবুঝে ডিজাইন করা ও বানানোর মতন জটিল চেতনা নিজে থেকেই থাকা সম্ভব। সেই জটিল চেতনার সৃষ্টি করার দরকার হয় না, অতি জটিল জ্ঞান লাভ করতে তাঁর কোনো সময়ও লাগে না।
 
 শতকোটিবছর ধরে এতবড় বিশ্বে প্রতি মূহূর্তে কোনো না কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া চলছে। এর ফলে মৌলিক পদার্থ একটি বিশেষ সজ্জায় সজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম হলেও শুন্য নয়। কিন্তু সেই ডিজাইন সজ্ঞানে তৈরী করে ফেলার মতন জটিল চেতনা আপনাআপনি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আরো অনেক অনেক কম। তাই ঈশ্বর বলে কোনো কিছু যদি নিজেই সৃষ্টি হতে পারে তবে মহাবিশ্ব নিজে সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়।


কিন্তু আস্তিকেরা দাবী করেন যে একটা পরমাণু কখনোই নিজে তৈরী হতে পারে না, কিন্তু সর্বজ্ঞানী সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নিজে নিজেই হয়ে যেতে পারেন। একখানা এককোষী জীব কোটি কোটি বছরেও নিজে সৃষ্টি হতে পারে না, কিন্তু ঈশ্বরের মতন একখানা রেডিমেড সিস্টেম নিজেই গজায়। অথচ বিজ্ঞানের নিতান্ত সাধারণ জ্ঞান দিয়েই এটুকু বোঝা যায় যে ঈশ্বরের মতন ১০০% পারফেক্ট কিছু নিজের থেকে তৈরী হবার চেয়ে ইলেক্ট্রণ, প্রোটণ, পরমাণূ বা এককোষী জীব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।