Author Topic: মশা  (Read 19 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

Jupiter Joyprakash

  • Administrator
  • Full Member
  • *****
  • Posts: 175
  • Karma: +0/-0
    • View Profile
মশা
« on: August 06, 2018, 06:29:26 AM »
মশাদের খোকাটি এখন বড় হইয়াছে। আজ তাহার বয়স দুইদিবস পার হইয়া তিনে পড়িল। সন্ধ্যাবেলায় শিকারে বাহির হইয়াছিল, রীতিমতো বীরত্ব দেখাইয়া মশারিতে ছিদ্র করিয়া একটি জাগ্রত মানবশিশুর রক্তপান করিয়া সে বাড়ি ফিরিয়াছে। মশারীতে বসিয়া ছিদ্র করিতে তাহার প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগিয়াছিল। মানবশিশুটি সেই সময়ে মশারীর অন্দরে বসিয়া উচ্চরবে পাঠ্যপুস্তক মুখস্ত করিতেছিল। সামান্য কিছু জ্ঞান তাহার মগজেও প্রবেশ করিয়া গিয়াছে।
বাসায় ফিরিয়া খোকা মায়ের কোলে গিয়া চড়িল। জীবনের প্রথম মশারী বিজয়ের কাহিনী শুনাইতে শুনাইতে সহসা প্রশ্ন করিল "আচ্ছা মা, মানুষ তো দুই প্রকার, তাইনা?"
মশার মা উত্তর দিলেন "হাঁ, মানুষ দুই প্রকার। গ্রামের মানুষ আর সহরের মানুষ।"
"জানো মা, আজ শুনলাম একই মানবজাতি হতে নাকি গ্রামের মানুষ আর সহরের মানুষ সৃষ্টি হয়েছে।"
মশার মা অতিশয় অবাক হইয়া গেলেন। "এমন কথা কে বলে রে? আমার তো আটদিন বয়স হয়ে গেল, আজ অবধি কখনো গ্রামের মানুষকে সহরের মানুষ হতে দেখিনি।"
"সে তুমি না দেখলেই কি হতে পারেনা? সবাই কি সবকিছু নিজে দেখতে পায়?"
"কেবল নিজে দেখিনি এমন তো নয়। কোনও মশা কোনোদিন দেখেছে বলে তো শুনিনি। আমার চোদ্দো পুরুষে কেউ শোনেনি। চোদ্দো পুরুষ মানে বুঝিস বোকাছেলে? ২০০ দিনের বেশি হতে পারে, তবে কম হবেনা। চিরকালই জানি গ্রামের মানুষ গ্রামে জন্মায়, সহুরে মানুষ জন্মায় সহরে।"

সদ্য লায়েক হওয়া খোকা কিন্তু শান্ত হইলনা। মায়ের নিকট হইতে উঠিয়া গাঁওবুড়োর আস্তানার দিকে যাত্রা করিল। গাঁওবুড়োর বয়স অনেক, দেখিয়াছেন অনেক কিছু। তিনি হয়ত নূতন কোনো তথ্য দিতে পারিবেন।
গাঁওবুড়ো চুপচাপ সমস্ত শুনিয়া লইলেন। তারপর শুধাইলেন “গ্রামের মানুষ থেকে সহরের মানুষ হওয়া সম্ভব হলে এখনও এত গ্রামের মানুষ আছে কেন? তারা সবাই তো তাহলে সহরের মানুষ হয়ে যেতে পারত। অমন আরামের জীবন কেউ নিজের ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়?”
খোকা বলিল “তাইতো! কিন্তু মানুষের বাচ্চাটা বই থেকে পড়ছিল। আমি মশারী ফুটো করতে করতে শুনেছি।”
গাঁওবুড়ো আবার কহিলেন “বইখানা নিশ্চয় বিগ্যানের বই?”
মশার খোকা মাথা চুলকাইয়া বলি “হাঁ, বিজ্ঞান কথাটাও দু’-তিন বার শূনেছিলাম।“
গাঁওবুড়ো অতিশয় গম্ভীর হইয়া গেলেন- “তুমি কি জানো, বিগ্যানের বই কে লেখে? সহরের মানুষদের মধ্যে একটি দল আছে, সে দলের নাম বিগ্যানী। এরা কেবলই খারাপ কাজ করে। মশা থেকে হাতী পর্যন্ত সবকিছু মারে। মশারীও তদেরই আবিষ্কার। এরা জগতের নিকৃষ্টতম জীব। তাদের লেখা বই শুধুই মিথ্যায় ভরা। তদেরই একজন নিশ্বাসের-ভাইরাস নামের বইতে লিখেছে মশারা নাকি মারাত্মক রোগ ছড়ায়। আগে আমরা সামান্য রক্তপান করলে কেউ কিছু মনে করত না। কিন্তু আজকাল রোগজীবাণুর কথায় বিশ্বাস করেই ভয়ে তারা মশাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছে। বিগ্যানীদের কথা বিশ্বাস করলে তোমার এখনই নিশ্বাস বন্ধ করে মরে যাওয়া উচিত।“
এইরূপে গাঁওবুড়োর নানাবিধ উপদেশ শুনিয়া খোকা যখন বাহির হইয়া আসিল তখন তাহার সমস্ত সংশয় দূর হইয়াছে। জগতে অনর্থ সৃষ্টিকারী বিগ্যানী নামক নিকৃষ্ট জীবদের উচিত শিক্ষা দিবার ইচ্ছাও তাহার মনে প্রবল হইয়া উঠিয়াছে। মানুষের ঘরে জন্ম লইয়া তাহারা কিনা মানুষকেই ভ্রান্ত শিক্ষা দিতে পুস্তক রচনা করে! গাঁওবুড়োর কথায় অবিশ্বাসের কিছুই নাই, মশাগ্রামের প্রায় সকল মশা তাঁহারই পাঠশালে ছাত্র ছিল। আর তিনদিন পরেই গাঁওবুড়োর জন্মদিন, বিগত মাসের ঐ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এই দীর্ঘ এক মাসের জীবনে তিনিও কখনও গ্রামের মানুষ হইতে সহরের মানুষ সৃষ্টির ঘটনা দেখেননাই। মশাদের জন্য জন্মদিন পালন এক বিরল ঘটনা কারণ সাধারণত মশারা ১৫ দিন অবধি জীবিত থাকে। জন্মদিনটি পার হইয়া গেলেই তিনি খোকাকে পাঠশালায় ভরতি কইয়া লইবেন এবং বিগ্যানী নামক নিকৃষ্ট জীবগুলিকে নিপাত করার গোপন পদ্ধতি শিখাইয়া দিবেন।
কোনোক্রমে দুইটি দিন পার করিয়া খোকা গাঁওবুড়োর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানাইতে হাজিরা দিল। কিন্তু বুড়োর আস্তানায় গিয়া শুনিল সহসা শরীর অসুস্থ হইয়া পড়ার কারণে তিনি বিগ্যানীদের নিকট চিকিৎসা করাইতে গিয়াছেন। সুস্থ হইয়া ফিরিয়া আসার পর পাঠশালা চালু হইবে।