Author Topic: রঙ্গিলা রসুল (Rangeela Rasool - The playboy prophet)  (Read 11998 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

Jupiter Joyprakash

  • Administrator
  • Full Member
  • *****
  • Posts: 175
  • Karma: +0/-0
    • View Profile
Re: রঙ্গিলা রসুল (Rangeela Rasool - The playboy prophet)
« Reply #30 on: January 23, 2014, 02:32:54 PM »

ইংরাজী ৬২৬ সনে মুহম্মদ কাবায় হজ্ব করিলেন। ইহা তাঁহার প্রথম হজ্ব ছিল। এজন্য কাবার পুরোহিতদের নিকট তিনি অনুমতি পাইয়াছিলেন। এখানেও মুহম্মদ তাঁহার কীর্তি স্থাপনের সুযোগ ত্যাগ করেন নাই।
চাচা আব্বাস এর বিধবা স্ত্রী মৈমূতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁহার বয়স ২৫ বৎসর ছিল আর সম্পর্কেও তিনি মুহম্মদের নিকটাত্মীয় ছিলেন। দেখাশুনা ঠিকভাবে করার জন্য মুহম্মদ তাঁহাকেও নিজগৃহে আনিয়া রাখিলেন। মদীনার মসজিদে যেখানে আগে নয়টি কক্ষ ছিল সেখানে আর একটি বানানো হইল।

ইহা ছিল মুহম্মদের বাস্তবিক বিবিদের কাহিনী। যেগুলিকে মুহম্মদ কুরানের বক্তব্যমতে দক্ষিণ হস্তে সংগ্রহ করিয়াছিলেন। এছাড়াও তিনি যেসব রক্ষিতা পালন করিতেন তাহারা আলাদা ছিল।

মারিয়াঃ-
ইংরাজী ৬২৮ সন এ মুহম্মদ তাঁহার গভর্ণরকে লকোকষ এর নিকট পাঠাইলেন। কিন্তু সে মুহম্মদের পয়গম্বরীতে বিশ্বাস করিত না। ফলে কিঞ্চিত তলোয়ারবাজীর দ্বারা তাহার ঈমান মজবুত করিয়া দিতে হইল। অতঃপর সে সম্পর্ক স্থাপন করিতে সম্মত হইয়া দুইখানি সুন্দরী ভেট পাঠাইল। তাহাদের একজনের নাম ছিল 'মারিয়া'। [হাদিশ মুসলিমঃ তাফসীর হুসেনী]

মসজিদের কক্ষে মুহম্মদের অন্য বিবিদের সহিত মারিয়ার স্থান হইল না। যেহেতু সে রক্ষিতা ছিল তাই তাহার জন্য আলাদা বাগানবাড়ি প্রস্তুত করা হইল। সেখানে মুহম্মদ মাঝেমধ্যে সময় কাটাইয়া যাইতেন।

মারিয়া কে লইয়া মুহম্মদের বদনাম আছে যে কুরানে কি মাগী পুষিবার ব্যবস্থা রাখা হইয়াছে? মুহম্মদের গৃহে রক্ষিতা ছিল, এ লইয়া না তাঁহার বিবিরা আপত্তি করিয়াছেন না তাঁহার অনুগত বান্দারা।
একবার কোথা হইতে তিন জন মাগী লাভ হইয়াছিল। মুহম্মদ সেগুলির এক-একটিকে শ্বসুর আবুবকর এবং উসমান এর নিকট এবং তৃতিয়টিকে জামাতা আলির নিকট ভেট পাঠাইয়াছিলেন। আজকের দুনিয়া এসব শুনিয়া ছিছি করিবেই; জামাতা-স্বশুরের সহিত এমন ব্যবহার! শাবাস মুহম্মদ!!

হিন্দুস্তানে শ্বসুরকে পিতার ন্যায় ও জামাতাকে পুত্রের ন্যায় মনে করা হয়। এমন শ্রদ্ধেয় গুরুজন এবং স্নেহের পাত্রকে মাগী পাঠানোকে কোনো ভদ্রলোকে কখনোই প্রশংসা করিতে পারিবে না, কিন্তু সেইকালে আরব দেশে এসব প্রথা চালু ছিল। তাছাড়া ফেরেস্তাগণ সাক্ষ্য দিয়া যাহাকে বৈধ করিয়া দিয়াছে তখন কে এমন কাফের আছে যে পয়গম্বরকে গিয়া বলিবে যে তুমি অবৈধ কর্ম করিতেছ!

Jupiter Joyprakash

  • Administrator
  • Full Member
  • *****
  • Posts: 175
  • Karma: +0/-0
    • View Profile
বিপদের কথা এই যে এইবার মুসলমানেদের মধ্যেও মুহম্মদের এই সকল কাজকর্মের ফলে খটকা লাগিতেছিল। সৈয়দ আমীর আলি এই কথাগুলি ঢেকুরটিও না তুলিয়া একেবারে চাপিয়া হজম করিয়া ফেলিয়াছেন। অ-মৌলানা শিবলী ব্যাপারটির আগাপাছতলা বদল করিয়া ফেলিয়াছেন। তাঁহার মতে মুহম্মদের গৃহে এমন কোনো ঘটনাই হয়নাই। কুরানে এক সুরা আসিয়াছিল, আসুন দেখা যাক-

"হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।"
"আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"
"যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন, যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন।"
"তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।"
"যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।"

ভাইলোগ, আপনারা কেহ কি বলিতে পারেন সে কোন গোপন কথা যাহা এক বিবি আরেক বিবির নিকট জানাইয়া দিয়াছিলেন? মুহম্মদ কোন বৈধ কর্মকে অপকর্ম মনে করিয়া ত্যাগ করিয়াছিলেন? বেচারী গরীব বিবিদের কেন আল্লার নিকট এমন ধমক খাইতে হইল?

হাদিশে পাওয়া যায় [সহি মুসলিম; তাফসীর হুসেইনী] একদা নবীর যখন হাফজ়ার সহিস বসবাসের সময় ছিল তখন হাফজ়া ছুটি লইয়া বাপেরবাড়িতে ছিলেন। সেই ফাঁকে হাফজ়ার খালি কামরায় মুহম্মদ মারিয়াকে লইয়া আসিয়া সংসার পাতিয়া ফেলিলেন। হাফজ়া ফিরিয়া আসিয়া যখন দেখিলেন তাঁহার খাস কামরা এক মাগীর দখলে চলিয়া গিয়াছে তখন তিনি রাগে আগুন হইয়া উঠিলেন।  এই অবস্থায় বিবিজানের মেজাজ দেখিয়া মুহম্মদ বিপদ কাটাইতে হাফজ়ার নিকট প্রতিজ্ঞা করিলেন যে হে বিবিজান, তুমি এই মাগিবাজীর কথা গোপন রাখিলে আমিও আর কখনো মারিয়া বান্দীর সহিত সহবাস করিব না এবং আমার পর তোমার আব্বাজানই খলিফা হইবেক।

বিপদ কাটিল বটে কিন্তু হাফজ়া বিবির পেটে কথাটি চাপা থাকিল না। ফলে আয়েশার নেতৃত্বে বিবিদের এক সভা বসিল এবং সকলে একমত হইয়া মুহম্মদকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত লইলেন। মুহম্মদ পয়গম্বর; তাহার উপরে মদীনার একমাত্র বাদশাহ! তিনি ভাবিলেন, এই বিবিরা কোন হরিদাস পাল যে আমার উপর মেজাজ দেখাইতে চায়? তিনিও সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐশ্বরিক অস্ত্র প্রয়োগ করিলেন এবং বিবিদের ত্যাগ করিয়া মাসখানেকের জন্য মারিয়া বান্দীর বাগানবাড়িতে গিয়া ডেরা বসাইলেন। বলিলেন, দেখি বিবিরা আমার কি করিতে পারে? তাহাদের ক্ষমতা একবার দেখি।
এর ফলে ভীষণ রকমের জটিলতা জন্মাইয়া গেল, আবুবকর গরম, ওমর গরম, ঊসমান গরম। এক মাগীর জন্য তাহাদের বেটিদের সহিত সম্পর্ক ত্যাগ করা হইল? মাসখানেক এইভাবে আলাদা থাকিয়া মুহম্মদের মেজাজ নরম হইয়া আসিল (হাফজ়ার মেজাজ তিনি ভালই জানিতেন) এবং তিনি বলিতে লাগিলেন - আল্লা বলিয়াছেন হাফজ়ার কসুর মাফ, তাহার সহিত তাহার বহিন দেরও কসুর মাফ। খোদা-খোদা করিয়া রাসুলের ঘরসংসারে ঝগড়া মিটিয়া শান্তি আসিল।
'মারিয়া'র প্রতি বাড়তি প্রেমের আরো এক কারণ ছিল যে তাহার গর্ভে সন্তান হইয়াছিল। মুহম্মদের কন্যা তো ছিল, কিন্তু পুত্র হইয়া মরিয়া গিয়াছিল। মুহম্মদ ওয়ারিস পাইয়াছিলেন। কাজের উত্তরাধিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বংশের প্রদীপ। পুত্র কে না চায়! সৈয়দ আমীর আলি কহেন, সম্ভবতঃ মুহম্মদ উপযুক্ত পুত্রের আশাতেই এতগুলি বিবাহ করিয়াছিলেন। কিন্তু এই আশা তাঁহার  কোনো বিবি পূরণ করিতে পারেন নাই, শেষে কিনা বান্দী মারিয়ার ভাগ্যে ছিল। এই নবজাতকের নাম রাখা হইল ইব্রাহিম। তাহার দুগ্ধের জন্য এক পাল বকরি রাখা হইয়াছিল।

একদিন মুহম্মদ ইব্রাহিমকে আয়েশার নিকট দেখাইয়া কহিলেন, দেখ মুহম্মদের বাচ্চা না? চোখে মুখে চেহারায়, রং-রূপ ব্যবহারে হুবহু মুহম্মদ। আয়েশা কিন্তু সতীনপুত্রকে দেখিতে পারিতেন না। তিনি কহিলেন "অন্য কাহারো সহিত মিল আছে কিনা দেখো। এইভাবে নিজের চেহারাখানার অপমান করা ঠিক না।" মুহম্মদ যখন বালকের স্বাস্থ্যের কথা তুলিয়া কহিলেন " দেখো কেমন বলবান পুত্র।"  আয়েশা তাহাতে উত্তর দিলেন " একপাল বকরি আনিয়া খাওয়াইলে সকলেই এমন ফুলিয়া উঠিবে।"

আমরা এই কাহিনীর উল্লেখ এজন্য করিলাম যাহাতে বহুপত্নীবানেরা কিঞ্চিত শিক্ষালাভ করেন। পিতা সন্তানের মুখ দেখিয়া শান্তি পাইতেছেন, আনন্দে ভাসিতেছেন আর অন্যদিকে বিবি হিংসায় জ্বলিতেছেন।