Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Jupiter Joyprakash

Pages: [1] 2 3 4
1
Collection / মশা
« on: August 06, 2018, 06:29:26 AM »
মশাদের খোকাটি এখন বড় হইয়াছে। আজ তাহার বয়স দুইদিবস পার হইয়া তিনে পড়িল। সন্ধ্যাবেলায় শিকারে বাহির হইয়াছিল, রীতিমতো বীরত্ব দেখাইয়া মশারিতে ছিদ্র করিয়া একটি জাগ্রত মানবশিশুর রক্তপান করিয়া সে বাড়ি ফিরিয়াছে। মশারীতে বসিয়া ছিদ্র করিতে তাহার প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগিয়াছিল। মানবশিশুটি সেই সময়ে মশারীর অন্দরে বসিয়া উচ্চরবে পাঠ্যপুস্তক মুখস্ত করিতেছিল। সামান্য কিছু জ্ঞান তাহার মগজেও প্রবেশ করিয়া গিয়াছে।
বাসায় ফিরিয়া খোকা মায়ের কোলে গিয়া চড়িল। জীবনের প্রথম মশারী বিজয়ের কাহিনী শুনাইতে শুনাইতে সহসা প্রশ্ন করিল "আচ্ছা মা, মানুষ তো দুই প্রকার, তাইনা?"
মশার মা উত্তর দিলেন "হাঁ, মানুষ দুই প্রকার। গ্রামের মানুষ আর সহরের মানুষ।"
"জানো মা, আজ শুনলাম একই মানবজাতি হতে নাকি গ্রামের মানুষ আর সহরের মানুষ সৃষ্টি হয়েছে।"
মশার মা অতিশয় অবাক হইয়া গেলেন। "এমন কথা কে বলে রে? আমার তো আটদিন বয়স হয়ে গেল, আজ অবধি কখনো গ্রামের মানুষকে সহরের মানুষ হতে দেখিনি।"
"সে তুমি না দেখলেই কি হতে পারেনা? সবাই কি সবকিছু নিজে দেখতে পায়?"
"কেবল নিজে দেখিনি এমন তো নয়। কোনও মশা কোনোদিন দেখেছে বলে তো শুনিনি। আমার চোদ্দো পুরুষে কেউ শোনেনি। চোদ্দো পুরুষ মানে বুঝিস বোকাছেলে? ২০০ দিনের বেশি হতে পারে, তবে কম হবেনা। চিরকালই জানি গ্রামের মানুষ গ্রামে জন্মায়, সহুরে মানুষ জন্মায় সহরে।"

সদ্য লায়েক হওয়া খোকা কিন্তু শান্ত হইলনা। মায়ের নিকট হইতে উঠিয়া গাঁওবুড়োর আস্তানার দিকে যাত্রা করিল। গাঁওবুড়োর বয়স অনেক, দেখিয়াছেন অনেক কিছু। তিনি হয়ত নূতন কোনো তথ্য দিতে পারিবেন।
গাঁওবুড়ো চুপচাপ সমস্ত শুনিয়া লইলেন। তারপর শুধাইলেন “গ্রামের মানুষ থেকে সহরের মানুষ হওয়া সম্ভব হলে এখনও এত গ্রামের মানুষ আছে কেন? তারা সবাই তো তাহলে সহরের মানুষ হয়ে যেতে পারত। অমন আরামের জীবন কেউ নিজের ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়?”
খোকা বলিল “তাইতো! কিন্তু মানুষের বাচ্চাটা বই থেকে পড়ছিল। আমি মশারী ফুটো করতে করতে শুনেছি।”
গাঁওবুড়ো আবার কহিলেন “বইখানা নিশ্চয় বিগ্যানের বই?”
মশার খোকা মাথা চুলকাইয়া বলি “হাঁ, বিজ্ঞান কথাটাও দু’-তিন বার শূনেছিলাম।“
গাঁওবুড়ো অতিশয় গম্ভীর হইয়া গেলেন- “তুমি কি জানো, বিগ্যানের বই কে লেখে? সহরের মানুষদের মধ্যে একটি দল আছে, সে দলের নাম বিগ্যানী। এরা কেবলই খারাপ কাজ করে। মশা থেকে হাতী পর্যন্ত সবকিছু মারে। মশারীও তদেরই আবিষ্কার। এরা জগতের নিকৃষ্টতম জীব। তাদের লেখা বই শুধুই মিথ্যায় ভরা। তদেরই একজন নিশ্বাসের-ভাইরাস নামের বইতে লিখেছে মশারা নাকি মারাত্মক রোগ ছড়ায়। আগে আমরা সামান্য রক্তপান করলে কেউ কিছু মনে করত না। কিন্তু আজকাল রোগজীবাণুর কথায় বিশ্বাস করেই ভয়ে তারা মশাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছে। বিগ্যানীদের কথা বিশ্বাস করলে তোমার এখনই নিশ্বাস বন্ধ করে মরে যাওয়া উচিত।“
এইরূপে গাঁওবুড়োর নানাবিধ উপদেশ শুনিয়া খোকা যখন বাহির হইয়া আসিল তখন তাহার সমস্ত সংশয় দূর হইয়াছে। জগতে অনর্থ সৃষ্টিকারী বিগ্যানী নামক নিকৃষ্ট জীবদের উচিত শিক্ষা দিবার ইচ্ছাও তাহার মনে প্রবল হইয়া উঠিয়াছে। মানুষের ঘরে জন্ম লইয়া তাহারা কিনা মানুষকেই ভ্রান্ত শিক্ষা দিতে পুস্তক রচনা করে! গাঁওবুড়োর কথায় অবিশ্বাসের কিছুই নাই, মশাগ্রামের প্রায় সকল মশা তাঁহারই পাঠশালে ছাত্র ছিল। আর তিনদিন পরেই গাঁওবুড়োর জন্মদিন, বিগত মাসের ঐ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এই দীর্ঘ এক মাসের জীবনে তিনিও কখনও গ্রামের মানুষ হইতে সহরের মানুষ সৃষ্টির ঘটনা দেখেননাই। মশাদের জন্য জন্মদিন পালন এক বিরল ঘটনা কারণ সাধারণত মশারা ১৫ দিন অবধি জীবিত থাকে। জন্মদিনটি পার হইয়া গেলেই তিনি খোকাকে পাঠশালায় ভরতি কইয়া লইবেন এবং বিগ্যানী নামক নিকৃষ্ট জীবগুলিকে নিপাত করার গোপন পদ্ধতি শিখাইয়া দিবেন।
কোনোক্রমে দুইটি দিন পার করিয়া খোকা গাঁওবুড়োর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানাইতে হাজিরা দিল। কিন্তু বুড়োর আস্তানায় গিয়া শুনিল সহসা শরীর অসুস্থ হইয়া পড়ার কারণে তিনি বিগ্যানীদের নিকট চিকিৎসা করাইতে গিয়াছেন। সুস্থ হইয়া ফিরিয়া আসার পর পাঠশালা চালু হইবে।

2
Poetry / নান্টু ঘটক Nantu Ghatak
« on: March 25, 2016, 10:03:40 AM »
নান্টু ঘটক ঘটকালিতে বিখ্যাত। তার পছন্দের পাত্রপাত্রীরা একেবারে আগুনের গোলা। এরকম মহান ঘটকের প্রতি সম্মান জানাতে তার মাধ্যমে হওয়া কিছু অসম্ভব বিয়ের কাহিনী এখানে জানানো হচ্ছে। নান্টু ঘটক ছাড়া এইসব বিবাহ আর কারও পক্ষে ঘটানো সম্ভব ছিল বলে আমাদের মনে হয়না।

3
Story / কোরবানি কাহিনী
« on: October 03, 2015, 09:16:25 AM »
প্রাতঃকালে ঈশ্বর তাঁহার আরাম চেয়ারে হেলান দিয়া দার্জিলিং চা পান করিতেছিলেন। স্বর্গোদ্যানের দিকে চাহিয়া চাহিয়া তাঁহার মনে পুরাতন দিনের স্মৃতি ভাসিতেছিল। ঐ আপেলবৃক্ষটির নিচে বসিয়া আদম ও ঈভ কতই না ঝগড়া করিয়াছে। তখন তাহাদের বাক্যযন্ত্রণায় তিনি বিরক্ত হইতেন। এখন মনে হইল উহাদের একেবারে বিদায় না করিয়া দিলেই ভাল হইত।
সহসা গিবরিল আকাশ হইতে সরাসরি ঈশ্বরের চেয়ারের পদতলে পতিত হইয়া সম্মুখের দুইটি পদ জড়াইয়া ধরিল। চিৎকার করিয়া বলিল; খোদাবন্দ! গজব হইয়া গিয়াছে!
ঈশ্বর পকেটে হাত দিয়া হাসিয়া কহিলেন- হইতেই পারে না। গজবের গুদামে আমি তালা মারিয়া রাখিয়াছি। চাবীটি আমার নিকটেই আছে।
গিবরিল কহিল, এ গজব সে গজব নহে প্রভু। আমি ইব্রাহিমের কুটির হইতে আসিতেছি।
ঈশ্বর আবার হাসিয়া কহিলেন, তুমি তো সেখানেই গিয়াছিলে। ইব্রাহিমের জন্য যে স্বপ্নাদেশ পাঠাইয়াছিলাম তাহা ডেলিভারি হইয়াছে তো?
ডেলিভারি হইয়াছে প্রভু! তবে সামান্য সমস্যা হইয়া গিয়াছে।
সামান্য সমস্যায় তুমি এত বিচলিত হইতেছ কেন? ইব্রাহিম তাহার পুত্রকে কোরবানি করতেছে- এই স্বপ্ন তাহার মগজে ঢুকাইয়া দিতে কোনো সমস্যা হইয়াছে? সমস্যা যাহাতে না হয় সেজন্য তোমাকে তো দুইটি প্রজেক্টর দেওয়া হইয়াছিল।
যন্ত্রে কোনও সমস্যা হয়নাই প্রভু।
তবে কিসের সমস্যা? বিস্তারিত বয়ান করিয়া শোনাও।

গিবরিল মাথা চুলকাইয়া কহিল- "প্রভু! আমি যখন দুইটি প্রজেক্টর লইয়া ইব্রাহিমের কুটিরের মধ্যে প্রবেশ করিলাম তখন মধ্যরাত। ইব্রাহিম ও তাহার পত্নী ঘুমাইতেছিল। আমি যন্ত্রটি তাক করিয়া ইব্রাহিমের মস্তকে স্বপ্নটি চালাইতে সবে শুরু করিয়াছি এমন সময়ে তাহার পত্নী জড়াজড়ি শুরু করিয়া দিল। গোলেমালে স্বপ্নটি দুইজনের মস্তকেই ঢুকিয়া গিয়াছে খোদাবন্দ!"

ঈশ্বর একটু মাথা চুলকাইয়া কহিলেন, "তারপর?"
"তারপর প্রভু, আমি স্বপ্নের ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। প্রাতঃকালে ইব্রাহিম বড়ই চিন্তিতভাবে ভেড়ার পাল লইয়া মাঠে চলিয়া গেল। সে বিদায় হইবামাত্র তাহার পত্নী তলোয়ারে শান দিতে বসিয়াছে।"
ঈশ্বর বড়ই আনন্দিত হইয়া শুধাইলেন- "পুত্রকে কোরবানি করার উদ্যোগ করিতেছে বুঝি? ইব্রাহিম কোনও কর্মের নহে।"
গিবরিল অশ্রুপাত করিতে করিতে কহিল- "না খোদাবন্দ! পুত্রকে কোরবানি দিবার কোনো সদিচ্ছা তাহার নাই। বরং অন্যকেহ যদি তেমন প্রচেষ্টা করে তবে তাহার মুন্ডটি নামাইয়া দিবার উদ্দেশ্যে সে তলোয়ার শানাইতেছে।"
ঈশ্বর মস্তকে হস্ত রাখিয়া বসিয়া রহিলেন। দার্জিলিং চা ঠান্ডা হইতে লাগিল। কিন্তু কোনও উপায় বাহির হইল না। অবশেষে শুধাইলেন- "উহার মগজে কোরবানির মহিমা সম্পর্কিত কিছু স্বপ্ন প্রজেক্ট করিয়া দেখিয়াছ?
"আপনি দিলে তাহাও করিয়া দিব খোদাবন্দ! কিন্তু তাহার অন্তরে মোহর মারা আছে। আপনার সৃষ্টি আপনি ভালই জানেন।"
ঈশ্বর চিন্তা করিতে লাগিলেন। উহারা বরাবরই এইরকম। ঈভকে বানানোর সময়েই তিনি নিশ্চয় কিছু গোলমাল করিয়াছিলেন। তাহার উপর স্বর্গ হইতে তাড়াইয়া দিয়া আরেক ভুল করিয়াছেন। একেবারেই হাতের বাহিরে চলিয়া গিয়াছে উহারা। হাতের কাছে থাকিলে হয়ত সংশোধনের পথ পাওয়া যাইত। চিন্তা করিতে করিতে ঈশ্বর ঘুমাইয়া পড়িলেন। গতিক দেখিয়া গিবরিল উড়িয়া পালাইল।

সন্ধ্যাবেলা ঈশ্বর গিবরিলকে ডাক দিয়া আনাইলেন। গিবরিল আসিবামাত্র তাহাকে যন্ত্রপাতি ধরাইয়া দিয়া কহিলেন- "এখনই যাও! ইব্রাহিম ঘুমাইবামাত্র তাহার মগজে নূতন স্বপ্ন দিয়া আসিতে হইবে। পুত্র কোরবানি ক্যানসেল হইয়া গিয়াছে। তাহার পরিবর্তে একটা দুম্বা দিতে বলিও।"

4
Story / আবুল ও অদ্ভূত প্রাণী
« on: November 26, 2014, 02:52:21 PM »
উড়ন্ত ঘোড়ার আবিষ্কারক, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ডাক্তার আবুল সেই রাতে বোররাক নিয়ে গবেষণায় মগ্ন ছিলেন। উড়ন্ত ঘোড়ার অস্তিত্ব থাকলে বোরাক থাকা অসম্ভব নয়। তবে মানুষের মাথাওয়ালা ঘোড়া বাস্তবে নেই এটুকু তিনি নিশ্চিত ছিলেন। তাই বোররাক নিয়ে স্বপ্ন দেখার চেষ্টা চালিয়েছেন অনেকদিন থেকেই। এজন্য কোরানের উপর মাথা দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু কোনোমতেই স্বপ্নে বোররাকের দেখা পাওয়া যায়নি।

সেই রাতেও তিনি একইভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলেন। শুয়ে শুয়ে গান শুনছিলেন - "হাল ছেড়োনা বন্ধু ..."। শুনতে শুনতে ঘুমিয়েও পড়েছিলেন। মধ্যরাতে তিনি দেখা পেলেন, বোররাকের নয়, কিন্তু তার চেয়েও আজব এক জন্তুর। সে প্রাণীর দেহ ছাগলের এবং গর্দানে মানুষের মাথা। কাচি কচি দাড়ি নেড়ে সে আবুলকে ডাকাডাকি করছিল।

আবুল উঠে প্রশ্ন করলেন- "আপনার পরিচয়?"
অদ্ভূত প্রাণী উত্তর দিল- "মহম্মদ খিজির খান।"
আবুল অবিলম্বে মোবাইলে গুগল খুলে সার্চ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু এই অদ্ভূত মহম্মদ খিজির খান সম্পর্কে কিছুই তথ্য পাওয়া গেল না। আবুল তখন প্রশ্ন করলেন, আপনার মত কি আরও আছে? নাকি আপনি একাই এই প্রজাতির?

মহম্মদ খিজির খান চিৎকার করে উঠলেন- "একা নই, আমি একা নই। আমরাই সব। সবাই আমার মতো।"

আবুল অবাক হলেন, কই; আপনার মত আগে কোথাও দেখিনি তো?
দেখবেন কিভাবে? দেখলেও চিনবেন না। তারা তো ঢাকা থাকে। আমি আপনাকে দেখা দিলাম কারণ আপনার পরামর্শ প্রয়োজন।

আবুল খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। প্রথমে ভেবেছিলেন এক নতুন প্রাণী আবিষ্কার করে ফেলেছেন। নোবেল এবার মাথায় পড়বেই। কিন্তু এরকম অনেক আছে শুনে তাঁর মন একেবারে ভেঙে গেল। শোকাকুল কন্ঠে বললেন, - "আচ্ছা, বলুন কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি!"

অদ্ভূত প্রাণী বললেন, "সমস্যা আমার নাম নিয়ে।"

আপনার নাম? মানে মহম্মদ খিজির খান? তাই তো? এই নামে সমস্যা কিসের?

মারাত্মক সমস্যা। এই নামের জন্যই আমাকে কেউ পছন্দ করে না। পার্টিতেও আমাকে সবাই ব্রাত্য বোস করে রেখেছে। যদিও আমার মধ্যে নেতা হবার সমস্ত গুণ ছিল তবুও তারা আমাকে ইলেকশনে দাঁড়াতেই দিল না। যতবারই দাঁড়াতে চাই, হাইকমান্ড বলেন- তুই ব্রাত্য, তুই বোস।

আবুল বড়ই চিন্তায় পড়ে গেলেন। "আপনার নামের অর্থটা নিয়েই সমস্যা। কিন্তু আপনি কি মনে করেন যে ভোটারেরা এত বেশি বোঝে?"

"ভোটারেরা নিজেরা বুঝবে কেন? বিরোধী দল তাদের বোঝাচ্ছে। আমার নামটা নাকি ধর্মবিরোধী। তাই আমি ভাবছিলাম নামটা পাল্টাব । এই ব্যাপারেই আপনার পরামর্শ দরকার।"

"তা বেশ তো। মহম্মদ খিজির খেলে যদি আপত্তি থাকে তাহলে মহম্মদ জামাল খান হয়ে যান। "

"এটা সম্ভব হবেনা। জামাল খান আমার বাপের নাম। বাপ বেটা দুজনের কি একই নাম চলে?"

"ধর্মের শুরুতে তো চলত শুনেছি। আবু বকর এর ব্যাটার নাম হত বকর-বিন-আবুবকর। কিন্তু সেসব দিন আর নেই। যাইহোক, আপনি কোথায় ইলেকশন লড়বেন? আপনাদের দেশে ভোটারেরা কেমন?"

ভোটার তো প্রায় সকলেই মহম্মদী। কিছু পুতুলভক্তও অবশ্য আছে। তাদের ভোটগুলোও পেলে মন্দ হয়না।

তাহলে একটা কাজ করতে পারেন। 'মহম্মদ খিজির খান্না' হয়ে যান। এতে আপনার ধর্মও বাঁচবে, আবার অন্য ধর্মেরও বাতাস লেগে কিছু ভোট পেতে পারেন।

খান-না হতে বলেন?

অবশ্যই। দেখবেন, এতে আপনার দুই নৌকাই থাকবে।

নৌকার কথা বুঝলেন কিভাবে? সত্যিই আপনি জিনিয়াস! আপনার কাছে এসে ভুল করিনি তাহলে। আচ্ছা, আসি তবে।

চোখের পলক ফেলার আগেই অদ্ভূত প্রাণী ভ্যানিশ হয়ে গেলেন। আবুল বুঝতেই পারলেন না যে স্বপ্ন দেখলেন নাকি জেগে ছিলেন। বাকি রাত তাঁর আর ঘুম হলনা।

পরের দিন সকালেই তিনি লোকগাথা বিশারদ বন্ধু ফকির আলিকে ফোন করলেন। সমস্ত ঘটনা শুনিয়ে দিয়ে জানতে চাইলেন এই ধরণের প্রাণীর কথা কোনো সাহিত্যে আছে কিনা।

ফকির আলি খুব সিরিয়াস ভাবে বললেন- "ভাই আবুল, তুমি কি তবে ব্লগ পড়ো না?"

নাহ! ব্লগে পড়ার আছে কি?

অনেক কিছুই আছে। তুমি যে প্রাণীর কথা বললে তাদের সম্পর্কে ব্লগে বিস্তারিত পাওয়া যায়। এদের বাংলা নাম ছাগু। তোমার চারিদিকেই এরা প্রচুর আছে।

ছাগু? আচ্ছা, সেও বলছিল বটে অনেক আছে। কিন্তু আমি দেখি না কেন?

দেখেছ নিশ্চয়। আলখাল্লা আর টুপি থাকায় চিনতে পারোনি। মানুষ মনে করেছ। বিস্তারিত জানতে চাইলে গুগল সার্চ করে নিও।

আবুল ফোন কেটে দিয়ে গুগলে "ছাগু" লিখে সার্চ শুরু করলেন। তার পর থেকে তিনি অন্য সব কাজ ফেলে ঐ গবেষণাতেই ব্যস্ত আছেন। তাঁর একান্ত গবেষণায় বাংলা গালির অভিধানে অনেক নূতন শব্দ যুক্ত হয়েছে এবং হয়েই চলেছে। আমরা তাঁর গবেষণার আরও প্রগতি কামনা করে শেষ করলাম।

5
Poetry / কাছিম কাহিনী Kachhim Kahini
« on: November 23, 2014, 06:45:08 AM »
কাছিম কাহিনী প্রথম বার্তা


ছোট্ট কাছিম করল যবে জাস্ট বিয়া
মনের মত মাঠ দিলনা পাগলাতে
করত কি সে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষেত নিয়া!
লাঙলটা তার চলত না হায় সেই ক্ষেতে।

কাছিম ছিল বেজায় মনোকষ্টেতে
শষ্যক্ষেতে হৈতনা তার বৃষ্টিপাত
ক্লান্ত হল দুম্বা এবং ঊষ্ট্রেতে!
ব্যথা করে উঠল তাহার দুইটি হাত।

পাগলা তখন ওপেন করে সেফটি ভল্ট
পাঠিয়ে দিল উড়নদূতের হাত দিয়ে
যে বইখানা এই দুনিয়ার সবচে' হট
বললে - যা, তোর প্রভুর নামে পড় গিয়ে।।

6
Poetry / সুশীল
« on: October 27, 2014, 07:15:20 PM »
ওরে সুশীল, কলম হাতে নিয়ে
শুধুই যদি করিস লেখালেখি,
ভাবিস মনে যত পাঠক গিয়ে
উঠবে নেচে তোদের দেখাদেখি,
অপরাধীর ফাঁসির দাবী তুলে
নিজ গলায় লাগাস টাইয়ের ফাঁস,
গরম দিনে পাখার হাওয়া খুলে
বোতল থেকে শীতল পানি খাস,
জগৎটাকে বদলে দিতে রোজই
অফিস বাড়ি করিস আসা যাওয়া,
মধ্যে মাঝে আটকে গেলে পথে
ভদ্র ভাবে শুদ্ধ গালি দেওয়া।

ট্রেণে বাসে যাওয়া আসার পথে
দুঃখ নিয়ে লক্ষ আলোচনা—
সব সমাধান আলমারিতে রেখে
আবার চলে অফিস আনাগোনা,
কেমন করে কাটানো যায় ছুটি
কাজের মাঝে হিসাব চলে তার,
খরচ কিসে কমানো যায় ভেবে
করে চলিস দেশের উপকার,
টিপিন বেলা খাওয়ার খেলা সেরে
শুদ্ধ জলে হস্ত দুটি ধোওয়া—
মাসের শেষে বিলের দেখা পেলে
ভদ্র ভাবে শুদ্ধ গালি দেওয়া।

এমনি করে অতীত কেটে গেছে
এমন করেই হয় যদি শেষ দিন,
রক্ত ঢেলে শক্তি দিল যারা
শুধবি কবে তাদের মহাঋণ?
তোদের পরে আসছে যারা কাঁচা
তাদের ঘাড়ে ঋণের বোঝা ফেলে—
নিজের মত বিজন ঘরে বাঁচা
কেমন করে কাটাস হেসে খেলে?
সমস্যাকে দেখেই মনে আসে
সুযোগ খুঁজে বিদেশ চলে যাওয়া—
সেখান থেকে আরাম লাগে বেশি
ভদ্র ভাবে শুদ্ধ গালি দেওয়া

খোলোস খুলে আসবি কবে তোরা
পথের মাঝে কাজ রয়েছে বাকি,
দেখিস না কি মহান কত চোরা
দুবেলা রোজ দিচ্ছে তোকে ফাঁকি।
অনেক হল তত্ব আলোচনা
আকাশ ছোঁয়া চিন্তা বহু হল
সেই সময়ে নেপোয় মেরে দই
মালসা হাতে ধরিয়ে দিয়ে গেল।
এখন তোদের পথ রয়েছে দুটি
ভদ্র হয়ে মালসা চেটে খাওয়া—
কিম্বা নেপোর চুলের মুঠি ধরে
ঠ্যাং টি ভেঙ্গে ল্যাংড়া করে দেওয়া।।

7
Poetry / ছুটি
« on: October 27, 2014, 06:41:02 PM »
মোষের পিঠে বাঘ লাফিয়ে কামড়ে দিল টুঁটি। (আ হা হা হা লুম)
মোষের হল ছুটি রে ভাই চিরকালের ছুটি। (আ হা হা হা লুম)
কি করে বাঘ ভেবে না পায়,
মাংস খায় না হাড্ডি চিবায়
কিম্বা টেনে চামড়া ছাড়ায় আগেই গোটাগুটি।।  (আ হা হা হা লুম)

মোষের বডি ঝোপের মাঝে যতন করে রেখে--
অন্য শিকার সন্ধানে বাঘ এদিক ওদিক দেখে।
দুরের মাঠে বাজিয়ে বেনু
রাখাল ছেলে চরায় ধেনু
বাঘ বলে আজ আমিও এনু খেলতে ছুটোছুটি।  (আ হা হা হা লুম).........

8
Poetry / মহাকবি
« on: October 27, 2014, 06:30:35 PM »
মহাকবি

********************

ইচ্ছে ছিল কাব্য লিখে মস্ত বড় কবি হয়ে
আমিও পাব নোবেল প্রাইজ ভবিষ্যতের 'রবি' হয়ে
হাজার লোকের ঘরে ঘরে
দেয়াল থেকে পেরেক ধরে
দুলব আমি বাত্তাস খেয়ে ক্যালেন্ডারের ছবি হয়ে।।

মনের ছবি আঁকি খাতায় কলম দিয়ে, নাই তুলি
ভাবের ঝোঁকে সাদা কাগজ আঁধার করে তাই তুলি
মগজ যখন লাগে ফাঁকা
বন্ধ করে পেনের ঢাকা
দুহাত দিয়ে মুখের কাছে চুটকি মেরে হাই তুলি।।

মাথা যখন ভর্তি থাকে কেবল লিখে যাই হরি
ঘুমের সময় ঘুমাই শুধু, খাবার সময় খাই হরি
এরই মাঝে খাতার 'পরে
দোয়াত গেল উলটে পড়ে
কাব্য হল কালিবরণ, উপায় কিছু নাই হরি।।

সেদিন থেকে অনের মাঝে জপছি শুধু "জয় কালি"
তোমায় ছাড়া কাব্য বলো কেমন করে হয় কালি!
কোনোক্রমে কাগজ ছেড়ে
বোতল মাঝে এসো ফিরে
একটু কৃপা করো আমায় নইলে যে আর নয় কালি!!

এমনি করেই হারিয়ে গেছে কাব্য লেখার খেইটুকু
টুকরো কিছু লিখি আজও, মাথায় আছে যেইটুকু
বলার কথা আছে কত
কে আর বসে শুনবে অত
বাধ্য হয়ে থামতে হল বলে কেবল এইটুকু
"যেসব কথা বলার ছিল রইল বাকি সেইটুকু"।।

9
Poetry / গান
« on: October 27, 2014, 06:16:09 PM »
গান ( উৎসর্গ - ফ্লোরা )
**************
নামিলো নয়নে বেদম ঘুম-ঘোর।
আহাঃ নামিলো নয়নে-এ এ এ
নামিলো নয়নে বেদম ঘুম-ঘোর।

যত জোর, যত জোর জোর জোর
ডাকাডাকি করো যত জোর
ঘরেতে আসে যদি চোর
কিছুতে জাগিব না আমি
না হলে বিভাবরী ভোর।। (ঘুমঘোর)

এত কেন ডাকাডাকি তোর!
আকাশে গলা তুলে শোর
সকালে এ এ এ এ এ  এ এ এ
সকালে দেখা দিতে এলে
আপনি খোলা পাবি দোর।। ঘুমঘোর,
নামিলো নয়নে বেদম ঘুম-ঘোর।

বাহিরেই ঘোরা ঘুরি কর
দুয়ারে মাথা ঠুকে মর
যদি না, ওরে য দি নাআআআআ
যদিনা ধরে কেহ এসে,
যদি না বলে কেহ চোর।। ঘুমঘোর,
নামিলো নয়নে বেদম ঘুম-ঘোর।

10
Poetry / চাঁদ
« on: October 27, 2014, 06:11:51 PM »
পাশের বাড়ির ছাদে  কে বসে ওই কাঁদে?
দেখতে গেলে পড়তে পারি হয়তো কোনো ফাঁদে।

ফাঁদে পড়া পছন্দ নয় জানতে তবু ইচ্ছে তো হয়
ওপর থেকে দেখবো বলে চাইছি যেতে চাঁদে।

চাঁদের গাড়ির টিকিট কেটে, যাচ্ছি যখন এয়ারপোর্টে
পথের মাঝে মিছিল চলে বেদম জিন্দাবাদে।

কাউন্ট ডাউন ফিনিস করে রকেট যখন গেল উড়ে
আমি তখন পথের মাঝে ট্র্যাফিক জ্যামের ফাঁদে।

মনে এখন দুঃখ ভারি, করে আছি মুখটি হাঁড়ি
ভাবছি এবার কাঁদব বসে নিজের বাড়ির ছাদে।

ওপর থেকে দেখবে ওরা, যাচ্ছে যারা চাঁদে।।

11
ঘরের মাঝে মশা কামড় দিল পায়
চন্দ্রভূষণের দাদুর
সিলিং থেকে এসে মাথায় দিল চাঁটি
চিমশে কেলে এক বাদুড়
দাদুও রাগ করে উঠানে বসলেন
পাতিয়া পুরাতন মাদুর
সুজ্জি মামু হেসে টাকেতে রোদ দিল
মাথা গরম হল দাদুর।

দাদুর টাকে ঘাম গড়িয়ে পড়ে পায়
চোখের চশমা যায় ভিজে
দুহাত তুলে ধরে আকাশে মেলে দেন
মুন্ডু চাপা দেন নিজে
সুবিধা না পাওয়ায় পড়ল জোর ডাক
দুষ্ট পোলাপান চাঁদুর
বেচারা রোদটাকে আটকে দিতে এল
পুরানো ছাতা নিয়ে দাদুর।

দাদুর টাক ঢেকে যেই না ছাতা খোলা
অমনি হয়ে গেল বেচাল
ছাতার মাঝে ছিল তিনটে আরশোলা
ভাবো তো কিরকম ক্যাচাল!
তাদের সাথে সাথে তিড়িং লাফ দিয়ে
বেরিয়ে এল দুই ইঁদুর
দাদুও এক দিকে চাঁদুও একদিকে
রইল পড়ে শুধু মাদুর।

12
Poetry / তালিবানের জয়গান
« on: October 27, 2014, 05:27:22 PM »
নিশ্চিত জানিতে ওগো জগত গৌরব তালিবান
তোমরাই ভবিষ্যত, পৃথিবীর সকল সম্মান
তোমাদেরই অধিকারে চলি যাবে। আপন খেয়ালে
আঁকিয়া উজ্জ্বল চিত্র নগরের দেয়ালে দেয়ালে
তোমরাই এনে দিবে মানব নয়নে স্বপ্নছবি
...তোমাদের স্তুতিগান লিখিয়া বিখ্যাত হবে কবি।
সাথে পাবে পুরষ্কার। তোমাদেরই দয়ার সে দান
আমরা বাজাব তালি। যা' পেয়ে তোমরা তালি-বান।

13
Poetry / বিদায়
« on: October 27, 2014, 05:02:38 PM »
তোমার সাথে প্রথম দেখায়
আকাশে শুকতারা
পুবের আলোর অরুণ রেখায়
যখন হল হারা।
চলার নেশা যখন মোরে
ডাক দিল প্রাণ আকুল করে
তখন তুমি হাতটি ধরে
ভুলিয়ে দিলে তাড়া।


সময় ভুলে তোমার সাথে
অনেক হল খেলা
এখন আমার আঁধার পথে
একলা চলার পালা।
তোমার সাথে পাহাড় চুড়ায়
উছল ঢেউয়ের ওঠা পড়ায়
আকাশ হতে আলোক হারায়
এলো সাঁঝের বেলা
এবার আমার তারায় তারায়
সূর্য খোঁজার পালা।

14
Poetry / ফেটাল এরর
« on: October 27, 2014, 04:50:20 PM »
ফেটাল এরর (নকল কবিতা)

পাগল থামাতে চায় ফেটাল এরর।
জানালা যখনি খোলে তখনি জগত ভোলে
চক্ষু পাকায়ে করে দাঁত কড়মড়।
ওষ্ঠ অধরেতে চাপি মেশিনের মাম্মি-বাপি
তুলিয়া করিতে চাহে দুনিয়া মাথায়
তখনি স্মরণে আসে সুশীলেরা চারিপাশে
ভদ্রভাবে বাস করে (দুদুভাতু খায়)।
টেকি বুদ্ধি নাহি তার তবু নাহি মানে হার
উত্তর খুঁজিয়া ফেরে শুধু নিশিদিন
এ জগতে আজকাল বিছানো তথ্যের জাল
তবু তার প্রশ্ন রয় উত্তর বিহীন।
নাহি করে আপডেট মারিবে না ফরম্যাট
এন্টিভাইরাস শুনে লাগে তার ডর
তবু তার শখ কত ভেবে চলে অবিরত
কিভাবে তাড়ানো যায় ফেটাল এরর।



মেশিনে মেশিনে কত চলে লেন দেন
প্রত্যহ প্রত্যেক পলে কত তথ্য বয়ে চলে
ভাবিলে গুলায়ে যায় মানুষের ব্রেন
সার্ভার বিশ্রামহীন জেগে আছে রাত্রিদিন
কে কখন তার কাছে কি দাবী পাঠায়
কেহ খোঁজে পিকচার কেউ খোঁজে সফটওয়্যার
কেউ বা কানের কাছে লারেলাপ্পা চায়।
হ্যাকারের দলবল নিত্য খুঁজে ফেরে ছল
হাসিল করিয়া নিতে অন্যের ঠিকুজি
পাবে কিনা জানা নাই তবু তার খোঁজা চাই
আর সব চিন্তা ফেলে করে খোঁজাখুঁজি।
কাজের খবর নাহি কেবল খদ্দের চাহি
অর্থহীন বিজ্ঞাপনে ভরে মনিটর
সে মহাসমুদ্র তীরে পাগল খুঁজিয়া ফেরে
কিভাবে থামানো যায় ফেটাল এরর।




একদিন, যবে শুরু হল সেই খেল-
বেকুব ফিনিক্স ছাত্র না চাহিয়া কিছুমাত্র
বিনামূল্যে প্রকাশিল লিনাক্স কার্নেল।
অপূর্ব সুযোগ দেখি দলে দলে বিশ্বটেকি
আসিয়া হইল জড়ো তাহার নিকট
যাকে ভেবেছিল সবে বিনামূল্যে কিবা হবে?
সেই সারা বিশ্ব জুড়ে হইল প্রকট।
মূল্যহীন বলে যারে নাসিকা বঙ্কিম করে
ঘৃণা করেছিল যত জানালা ওস্তাদ
অপূর্ব অমূল্য বলে তাহারাই দাবী তোলে
ইহার চালনবিধি শিখিবার সাধ।
জনতার দাবীমত টেকিগণ মিলে যত
নতুন ভার্সন বের করে পর পর
পাগল দেখেনা হায় জানালার গুণ গায়
তাড়াইতে চায় শুধু ফেটাল এরর।



এতদিনে বুঝি তার ঘুচে গেছে আশ ।
খুঁজে খুঁজে ফিরে তবু বিশ্রাম না জানে কভু ,
        আশা গেছে , যায় নাই খোঁজার অভ্যাস ।
বিরহী বিহঙ্গ ডাকে সারা নিশি তরুশাখে ,
        যারে ডাকে তার দেখা পায় না অভাগা ।
তবু ডাকে সারাদিন আশাহীন শ্রান্তিহীন ,
        একমাত্র কাজ তার ডেকে ডেকে জাগা ।
আর-সব কাজ ভুলি আকাশে তরঙ্গ তুলি
         সমুদ্র না জানি কারে চাহে অবিরত ।
যত করে হায় হায় কোনোকালে নাহি পায় ,
        তবু শূন্যে তোলে বাহু , ওই তার ব্রত ।
কারে চাহি ব্যোমতলে গ্রহতারা লয়ে চলে ,
        অনন্ত সাধনা করে বিশ্বচরাচর ।
সেইমতো বিশ্ব জুড়ে পাগল খুঁজিয়া ফেরে
        কিভাবে বিলোপ হবে ফেটাল এরর।

15
Poetry / জ্বলন্ত বিড়ি
« on: October 27, 2014, 04:49:05 PM »
---জ্বলন্ত বিড়ি---

আমায় সে দিয়েছিল জ্বলন্ত বিড়ি
বলে এতো বিড়ি নয় স্বর্গের সিঁড়ি
স্বর্গের সিঁড়ি......
না শুনে গুরুর মানা,
সে প্রথম বিড়ি টানা—
নাকে মুখে ধোঁয়া ঢুকে কেশে কেশে মরি......
কেশে কেশে মরি......

তবু কেন বিড়িটারে ফেলা নাহি গেল
খক খক কত কাশি চোখে জল এল
চোখে জল এল......
সেদিন সে বিড়ি যদি
না খেতাম হায় বিধি—
হতনা আজিকে যেতে বদ্যির বাড়ি......
বদ্যির বাড়ি......

বিড়ি টানা ভালো নয় ভালো করে জানি
ভাবি কাল ছেড়ে দেব আজ শুধু টানি
আজ শুধু টানি......
আমার চতুর পাশে
তাজা হাওয়া যায়আসে
নিকোটিন ভরা ধোঁয়া তারি মাঝে ছাড়ি......
তারি মাঝে ছাড়ি......

Pages: [1] 2 3 4